কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

· Prothom Alo

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে কাতার। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

বিবৃতিতে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কাতারকে লক্ষ্য করে ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে একটিকে মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে দ্বিতীয়টি রাজধানী দোহার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওই ঘাঁটির ওপর পড়ে। এতে কারও প্রাণহানি হয়নি।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর। বাইরের যেকোনো হুমকির কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের নাগরিক, প্রবাসী ও দর্শনার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং গুজবে কান না দিয়ে যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে বলা হয়েছে।

ওই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কোনো বস্তুগত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

দোহার উপকণ্ঠে অবস্থিত আল-উদেইদ ঘাঁটিটি কাতার ও যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীও ব্যবহার করে থাকে।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলার প্রতিশোধ নিতে গত বছরও এই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ইরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, গত শনিবার পুরো ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। এখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রবাহিনীর প্রায় ১১ হাজার সেনা অবস্থান করেন।

২৪ হেক্টর (৬০ একর) এলাকা নিয়ে গঠিত এই ঘাঁটিতে ড্রোনসহ প্রায় ১০০টি উড়োজাহাজ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানি হামলা শুরুর পর থেকে কাতারের আকাশসীমার দিকে ৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১০১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৯টি আত্মঘাতী ড্রোন ধেয়ে আসার বিষয়টি তারা শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে সব কটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪টি ড্রোন মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে।

গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলার পর থেকে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ওই হামলায় প্রায় ৮০০ মানুষ নিহত হন।

এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির ৪৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যার দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

এর জবাবে ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান।

Read full story at source