ফুটবলার হতে চায় সোনালী হাসদা

· Prothom Alo

অনেকেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আমি একজন ফুটবলার হতে চাই। ভালো ফুটবলার হয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরতে চাই। দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। পিছিয়ে পড়া আমাদের কোল সম্প্রদায়ের মেয়েদের উৎসাহ দিয়ে এগিয়ে নিতে চাই। কথাগুলো বলছিল রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোনালী হাসদা।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার গ্রাম বাবুডাইংয়ে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম সোনালী হাসদার। রুপেন হাসদা ও আরতী টুডুর পরিবারের তৃতীয় সন্তান সে। তার ছোট ভাই অসিত হাসদা একই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তাদের বাবা-মা উভয়ই কৃষিকাজ করে। পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়েও চাষাবাদ করে। সোনালী হাসদা ছোট থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে কৃষি কাজে অভ্যস্ত। অন্যের জমিতে নিড়ানি, ধান লাগানো, আলু, মসুর, ছোলা ওঠানোর কাজ করে যে উপার্জন করে তা দিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ মেটানোর পর অবশিষ্ট টাকা বাবার হাতে তুলে দেয় কিন্তু সব ছাপিয়ে সময় সুযোগ পেলেই গ্রামের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে নেমে পড়ে সে। স্কুলে টিফিনের ফাঁকে অন্য শিক্ষার্থীরা কেউ পত্র-পত্রিকা পড়ে বা কেউ কেউ অন্যান্য খেলায় মেতে থাকলেও সোনালী ফুটবল ও সঙ্গী খুঁজে নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে। ফুটবলের সঠিক কলাকৌশলের অভাব থাকলেও সে তার নিজের দক্ষতায় মাঠে অপ্রতিরোধ্য।

রুপেন হাসদা বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে প্রায় সবাই দরিদ্র শ্রেনির। পরিবারের সবাইকে কোন না কোন কাজে যুক্ত থাকতে হয়। সব সময় কাজ থাকে না। স্কুল ছুটি থাকলে অন্য ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন মৌসুমি কাজে যুক্ত হয়। কিন্তু সোনালীর কাজের চেয়ে খেলায় মনোযোগ বেশি, একটু চঞ্চল প্রকৃতির। সুযোগ পেলেই বা বৃষ্টি নামলেই গ্রামের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে নেমে পড়ে। কোন বাধা মানে না।

পড়ালেখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক দলের সদস্যও সোনালী হাসদা। এ ছাড়া সে ভালো আলপনা আঁকায় পারদর্শী সে। বিভিন্ন সময় স্কুল, নিজ বাড়িসহ প্রতিবেশীদের বাড়ির মাটির দেয়ালে আলপনা এঁকে দেয় সে। সোনালী হাসদা বলে, ‘বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় আমাদের বিনা খরচে পড়ালেখা শেখানোর পাশাপাশি নানারকম দুর্যোগকালে সহায়তা দিয়ে পাশে থেকেছে। শিক্ষকবৃন্দ সার্বক্ষণিক খোঁজ নেন। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই। একজন ভালো ফুটবলার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে চাই। আমার জীবনের স্বপ্নটাকে পূরণ করতে চাই।'

Read full story at source