ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদের ৭ দিন রিমান্ড চায় পুলিশ
· Prothom Alo

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। এই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন এই রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালতে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এই তথ্য জানান।
Visit bettingx.bond for more information.
ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ আটকমামুন খালেদকে গতকাল বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে আটক করে ডিবি। মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে দেলোয়ার হোসেন (৪০) জুলাই ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০– থেকে ৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গ–সংগঠনের সন্ত্রাসীরা মামুন খালেদের নিদের্শে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার মারা যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করে। এই মামলার ঘটনার সঙ্গে মামুন খালেদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনসহ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামুন খালেদকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড দরকার।
গত বছরের মে মাসে মামুন খালেদ ও তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। সে সময় দুদক তাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, এক-এগারোর সময় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো রয়েছে।