রানীর অদম্য যাত্রার গল্প

· Prothom Alo

ঈদে মুক্তি পাওয়া রেদওয়ান রনির ‘দম’ সিনেমায় আফরান নিশোর বিপরীতে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী। সম্প্রতি এক আড্ডায় পূজা শুনিয়েছেন এই সিনেমায় তাঁর যুক্ত হওয়া, হাড়কাঁপানো শীতে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং ‘রানী’ হয়ে ওঠার গল্প।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

অডিশনে স্নায়ুচাপ
পূজার কাছে ‘দম’-এ অভিনয়ের অভিজ্ঞতা অন্য সিনেমার থেকে আলাদা। এই প্রথম কোনো সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অডিশন পর্ব পেরিয়ে আসতে হয়েছে তাঁকে। সিনেমার গল্প, নির্মাতা ও সহশিল্পীদের ব্যাপারে জানতে পেরে আগ্রহ নিয়েই অডিশন দেন অভিনেত্রী। তবে কিছুটা সংশয় ছিল, পার হতে পারবেন তো অডিশনে? সবশেষ অডিশনে চূড়ান্ত হয়েই ‘রানী’ হওয়ার সুযোগ পান অভিনেত্রী।

পূজা বলেন, ‘অনেক চিন্তায় ছিলাম হয়তোবা অডিশনে না–ও টিকতে পারি। অনেক ডায়ালগ মুখস্থ করে স্ক্রিনের সামনে অডিশন দিতে হয়েছে। এরপর ফলাফলের অপেক্ষা, সময় যাচ্ছিল আর মনে হচ্ছিল মনে হয় বাদ পড়েছি। অনেক দিন পর যখন বলা হলো “আপনি নির্বাচিত”, হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম, তখনই নিজেকে নূরের রানী মনে হতে লাগল।’

‘দম’ সিনেমা নিয়ে আড্ডার ফাঁকে পূজা চেরী। মীর হোসেন

রানী হওয়ার প্রস্তুতি
পূজার হাতে চূড়ান্ত চিত্রনাট্য তুলে দেওয়ার পরই রেদওয়ান রনির বেশ কিছু নির্দেশনা ছিল। পরিচালক পূজাকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন যে তিনি যেন ক্যামেরার সামনে কোনো ‘অভিনয়’ না করেন। তিনি চেয়েছিলেন পূজা যেন অভিনয়ের কৃত্রিমতা ঝেড়ে ফেলেন। পরিচালক তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি ধরে নেন যে তিনিই গল্পের চরিত্র ‘রানী’। অর্থাৎ নিজেকে আলাদা একজন অভিনেত্রী হিসেবে না ভেবে পুরোপুরি রানীর সত্তায় ডুবে যেতে বলেছিলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে পূজা বলেন, ‘রনি ভাই আমাকে প্রথমেই বলেন, ধরে নাও তুমি-ই রানী আর তোমার স্বামীর জন্য লড়াই করছ—এভাবেই দৃশ্যগুলো ন্যাচারাল হতে হবে।’ এই স্বাভাবিক অভিনয়ের জায়গাটা ধরে রাখতে পূজা নিজেও সচেতনভাবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করেছি নিজেকে খুব ন্যাচারাল রাখতে।’

‘দম’–এর ফার্স্ট লুকে পুজা চেরী। চরকির সৌজন্যে

হাড়কাঁপানো অভিজ্ঞতা
‘দম’ টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্প। গল্পের প্রয়োজনে কাজাখস্তানের চরম প্রতিকূল পরিবেশে শুটিং হয়েছে। সেখানে শুটিং করাটা পুরো টিমের জন্যই ছিল ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে শীতের পোশাক বা হ্যান্ড গ্লাভস পরার অনুমতি ছিল না। সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে পূজা বলেন, ‘মাইনাস টেম্পারেচারে খাপ খাইয়ে নেওয়াটাই অনেক বড় একটা ব্যাপার। একটা নরমাল শাড়ি বা জামা পরে, খালি পায়ে শুটিং করতে হয়েছে। ঠান্ডার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে পা কেটে রক্তা বেরিয়েছে। শুধু কাজাখস্তানই নয়, পাবনায়ও যখন শুটিং করেছি, তখনো কনকনে শীত ছিল, এর মাঝে বৃষ্টিও হয়েছে। সব মিলিয়ে এমন প্রতিকূল অবস্থায় আগে কাজ করিনি।’

পূজা চেরী। মীর হোসেন

অভিনয়ের পাঠশালা
এই ছবিতেই আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, জাহিদ হাসান, আবুল হায়াত এবং ডলি জহুরের মতো শক্তিমান অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন পূজা চেরি। তাঁদের সঙ্গে কাজ করাটা পূজার জন্য পাঠশালার মতো।

পূজা বলেন, ‘তাঁদের মধ্যে তো আমি একদম ক্ষুদ্র, একটা পানির ফোটাও নই। তবে পুরো শুটিংয়ে কখনো তাঁরা বুঝতে দেননি তাঁরা অনেক সিনিয়র শিল্পী। কোনো জায়গায় ভুল করলে আফরান নিশো ভাই বা চঞ্চল চৌধুরী ভাইয়া বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের সহযোগিতা আমার অভিনয়কে আরও সহজ করে তুলেছে। নিজেও প্রতিটি বিষয় তাঁদের কাছে বারবার জানতে চেয়েছি, এ ডায়ালগ এভাবে দেওয়া ঠিক হচ্ছে কি না, সব মিলিয়ে দারুণ সাপোর্ট করেছেন তাঁরা।’

ভেতরের যে ঝড় কেউ দেখে না, ‘দম’ সেটারই গল্প বলে: পূজা চেরী

আন্তর্জাতিক টিমের পেশাদারত্ব
শুধু বিদেশে শুটিং নয়, আন্তর্জাতিক অনেক কলাকুশলী ও শিল্পীরা ছিলেন দম ছবিতে। ছবিটির চিত্রগ্রহণে ছিলেন মিখাইল সিরিয়ানভ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সে দেশের সেরা কয়েকজন ক্রু। বিদেশের কলাকুশলীদের সঙ্গে কাজ করে নতুন অনেক কিছুই শিখেছেন পূজা। এর মাঝে তাঁদের সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতা তাঁর ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। পূজা বলেন, ‘তাঁরা অত্যন্ত পেশাদার এবং একদম রুটিন ও শিডিউল মেনে টাইম টু টাইম কাজ সম্পন্ন করেন, যা খুব ভালো লেগেছে। আমাদের এখানেও অনেক নির্মাতা ও টিম সময়কে গুরুত্ব দেন, তবে তাঁরা অনেক বেশি পেশাদার।’

Read full story at source