এপস্টিন নথি ঘিরে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে কি বরখাস্ত করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
· Prothom Alo

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করার বিষয়ে আলোচনা করছেন। বিচার বিভাগে বন্ডির নেতৃত্ব ও এপস্টিন ফাইলস সামলানোর ধরন নিয়ে ট্রাম্প দিন দিন বিরক্ত হয়ে উঠছেন বলে এই আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তি জানিয়েছেন।
Visit sportbet.rodeo for more information.
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোচনাকারী ব্যক্তিরা বলছেন, ট্রাম্প পাম বন্ডির জায়গায় এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) প্রশাসক লি জেলডিনকে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ট্রাম্প অবশ্য এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। বন্ডির সহযোগী ব্যক্তিরা গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর থাকার ছবির কথা উল্লেখ করে তাঁকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনাকে নাকচ করে দিয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি একজন চমৎকার মানুষ এবং তিনি ভালো কাজ করছেন।’ পাম বন্ডির এক মুখপাত্র ট্রাম্পের এই বিবৃতির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
তবে কয়েক মাস ধরে বন্ডির ওপর প্রেসিডেন্টের মন তেতো হয়ে আছে। তার অন্যতম প্রধান অভিযোগ হচ্ছে, এপস্টিন ফাইলস বা নথিপত্র নিয়ে বন্ডির ভূমিকা। এই নথি ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছে তাঁর জন্য একটি রাজনৈতিক দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন ব্যক্তিদের মত হচ্ছে, তিনি বন্ডির যোগাযোগ দক্ষতার অভাব নিয়েও অভিযোগ করেছেন। বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ যথেষ্ট আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
গত মাসে হাউস ওভারসাইট কমিটি পাম বন্ডিকে সমন পাঠানোর পক্ষে ভোট দেয়। যৌন পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালে কারাগারে থাকাকালে আত্মহত্যা করা কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের বিষয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত নিয়ে তাঁকে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করতেই এই সমন দেওয়া হয়।
বন্ডির জবানবন্দি ১৪ এপ্রিল নির্ধারিত রয়েছে। অবশ্য তিনি ও কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান কেনটাকি থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য জেমস আর কোমার এই জবানবন্দি এড়াতে একসঙ্গে কাজ করছেন। তবে একবার সমন জারি করার পর তা আইনত প্রত্যাহার করা সম্ভব কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প আরও বলেন, বন্ডির অধীনে বিচার বিভাগ তাঁর রাজনৈতিক শত্রুদের বিচার করতে যথেষ্ট তৎপর নয়। গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প পাম বন্ডির উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি কাউকে অভিযুক্ত না করার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরিয়ে দিতে কিছুটা দ্বিধাবোধ করছিলেন। কারণ, তাঁর প্রথম মেয়াদ ঘন ঘন বরখাস্ত ও কর্মী বিশৃঙ্খলার কারণে প্রশাসনের কাজ ব্যাহত হয়েছিল। তবে কিছু কর্মকর্তা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের মনোভাব বদলেছে। বিশেষ করে ক্রিস্টি নোমকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় মার্কওয়েন মুলিনকে অনায়াস নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া ট্রাম্পকে উৎসাহিত করেছে।
এক বছর ধরে ট্রাম্প পাম বন্ডির বিষয়ে মিশ্র সংকেত দিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ করেছেন, বন্ডি তাঁর অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বিশেষ করে এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস বি কোমি ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমসের মতো রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ মামলা জিততে না পারায় তিনি বেশ ক্ষুব্ধ।
একই সময়ে ট্রাম্প জনসমক্ষে বন্ডির আনুগত্যের প্রশংসা করেছেন এবং প্রায়ই তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত বন্ডিকে বরখাস্ত করলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অবশ্য তিনি লি জেলডিনকে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
লি জেলডিন নিউইয়র্কের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এবং ওই রাজ্যের সাবেক গভর্নর পদপ্রার্থী। তিনি ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। ইপিএ প্রশাসক হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলডিন ট্রাম্পের ‘জ্বালানি কৌশল’–এর ভিশন প্রচার করাকে নিজের মিশন হিসেবে নিয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে কয়লাশিল্পের প্রচারমূলক হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে জেলডিন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তিনি আমাদের গোপন অস্ত্র। তিনি রেকর্ড সময়ের মধ্যে সব অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছে।’
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে ইপিএর প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।