বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ‘মুখ রক্ষা করে’ পিছু হটার উপায় নেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের

· Prothom Alo

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর যে হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা এক ভয়াবহ ঝুঁকির দিকে চলে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ও আমওয়াজ ডট মিডিয়ার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শাবানি এমনটি মনে করেন।

শাবানি বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যেটা অনেকটা দ্বৈরথের (ডুয়েল) মতো, যেখানে কোনো পক্ষেরই এখন আর সম্মান বজায় রেখে পিছু হটার কোনো পথ খোলা নেই।...সেই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে আমি মনে করি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অঞ্চলে চরম সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।’

Visit esporist.com for more information.

বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ইরানের হামলা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কুয়েতে একাধিক ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সদর দপ্তরে আগুন লেগেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লবণাক্ত পানি শোধনাগারেও আঘাত হানা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

অন্যদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান তাদের একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান।

কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক মালিক ত্রাইনা জানান, গত শনিবার রাতে সেখানে অসংখ্য সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে। সকাল পাঁচটা-ছয়টার দিকে সরকারি বিবৃতির মাধ্যমে হামলার খবর জানতে পারেন তাঁরা। প্রথম বিবৃতিতে কুয়েতের দুটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে হামলার কথা জানানো হয়। এর ফলে দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

কুয়েতের জন্য লবণাক্ত পানি শোধনাগারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতেই পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে এগুলোর কদর বেশি। তবে কুয়েত এসব পানি শোধনাগারের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। কুয়েতের পানীয় জলের ৯০ শতাংশই আসে দেশটির নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আটটি পানি শোধনাগার থেকে। তাই এসব স্থাপনায় হামলাকে কুয়েতের কর্মকর্তারা রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমার লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন।

নজরদারি এড়াতে দুই পাহাড়ের মধ্য থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান

কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েত সিটি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে আল শুওয়াইখ এলাকার তেল কমপ্লেক্সে হামলা হয়েছে। হামলা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়েও। মন্ত্রিপরিষদ কমপ্লেক্সের ওই ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয় ছাড়া আরও তিনটি মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আপাতত তাঁরা বাসা থেকেই অনলাইনে কাজ করবেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতের অবস্থান ইরানের সবচেয়ে কাছে। ইরাকের সঙ্গেও দেশটির সীমান্ত রয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষের ধারণা, অনেক হামলা ইরাক সীমান্ত থেকে চালানো হচ্ছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কুয়েত প্রশাসন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরবরাহ করা এই ছবিতে দেশটির মধ্যাঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে

মালিক ত্রাইনা আরও বলেন, এক ঘণ্টার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আল-বুরুজ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে লাগা একাধিক আগুন নেভানোর কাজ চলছে। উদ্ধারকারী দলগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। ঠিক এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যখন শনিবার ইরানে থাকা আল-জাজিরার সাংবাদিকেরা দেশটিতে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে হামলার খবর দিয়েছিলেন।

এর আগে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কয়েক ঘণ্টায় তারা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এ ছাড়া বাহরাইনে বাপকো এনার্জির একটি জ্বালানি মজুত কেন্দ্রের ট্যাংকেও হামলা হয়েছে। বাহরাইনের জ্বালানি খাতের জন্য বাপকো এনার্জি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। সংঘাত শুরুর পর থেকে মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের হামলা চলছে।

Read full story at source