সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলের জ্বালানি নিতে লাগবে ‘ফুয়েল কার্ড’, পাম্পে দীর্ঘ সারি

· Prothom Alo

সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে এখন থেকে জেলা প্রশাসকের সিল–স্বাক্ষরযুক্ত ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার আগেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

Visit extonnews.click for more information.

গতকাল বুধবার রাতে জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গতকাল সন্ধ্যার দিকে জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার লিটার ডিজেল, ৪৫ থেকে ৫০ হাজার লিটার পেট্রল ও ২০ থেকে ২২ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা আছে। তবে খুলনার ডিপো থেকে অনেক দিন ধরে চাহিদার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো দিন সরবরাহ এলেও পরদিন বন্ধ থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মোটরসাইকেল আছে। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মোটরসাইকেল ভাড়াচালিত। এ ছাড়া দুই থেকে তিন হাজার প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস চলাচল করে। এসব যানবাহনের পাশাপাশি কৃষিজমির সেচযন্ত্র ও ওষুধ ছিটানোর যন্ত্র চালাতেও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত আটটার মধ্যে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হবে। এ সময়ের বাইরে কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্টে তেল সরবরাহ করা যাবে না। তেল নেওয়ার সময় চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ট্যাক্স টোকেন সঙ্গে রাখতে হবে এবং হেলমেট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফুয়েল কার্ড জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বোতল বা ড্রামসহ কোনো কনটেইনারে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলাবাজারে জ্বালানি তেলের ক্রয়–বিক্রয়ও বন্ধ থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নতুন এ সিদ্ধান্তের খবরে গতকাল রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই এটিকে নতুন ভোগান্তির কারণ হিসেবে দেখছেন।

তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের ভাড়ার মোটরসাইকেলচালক প্রহ্লাদ হালদার বলেন, কয়েক দিন ধরে ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রল না পেয়ে তিনি গ্রামের দোকান থেকে বেশি দামে কিনতেন। এখন সেখান থেকেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি পেট্রল পাননি। এ জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনি মোটরসাইকেল চালাতে পারছেন না।

একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন ডিবিসি টেলিভিশনের প্রতিনিধি বেলাল হোসাইন ও ৭১ টেলিভিশনের প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জি। জ্বালানিসংকটের কারণে গতকাল থেকে তাঁরা মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ রেখেছেন। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে হয়। অধিকাংশেরই একমাত্র বাহন মোটরসাইকেল। তাই জরুরি সেবা বিবেচনায় সাংবাদিকদের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

Read full story at source