ব্রাজিলের যে গ্রামে প্রায় সবাই যমজ
· Prothom Alo

সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার ছোট্ট এক গ্রাম। চারপাশে সবুজ আর শান্ত পরিবেশ। প্রথম দেখায় একেবারে সাধারণ মনে হবে। কিন্তু একটু হাঁটাহাঁটি করলেই তুমি অবাক হয়ে যাবে! সামনে দিয়ে একই রকম দেখতে দুজন মানুষ হেঁটে যাচ্ছে। একটু পর আবার—আরেক জোড়া! যেন পুরো গ্রামটাই যমজে ভরা।
Visit esporist.org for more information.
এই অদ্ভুত জায়গাটির নাম ক্যান্ডিডো গডয়। এটি অবস্থিত ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে।
কেন এত যমজ
সাধারণভাবে পৃথিবীতে যমজ সন্তানের জন্ম খুব বেশি হয় না। প্রায় প্রতি ৮০টি জন্মে ১টি যমজ হয়। কিন্তু ক্যান্ডিডো গডয়ে হিসাবটা একেবারেই আলাদা। এখানে প্রায় প্রতি ৫টি জন্মে ১টি যমজ!
মানে, তুমি যদি ওই গ্রামের কোনো স্কুলে যাও, তাহলে দেখবে—একই রকম দেখতে দুজন সহপাঠী খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এমনকি অনেক সময় শিক্ষকও ভুল করে ফেলতে পারেন!
যে পাঁচ অঞ্চলে কম্পাস ঠিকভাবে কাজ করে নাবিজ্ঞান কী বলছে
এত বেশি যমজ কেন জন্মায়, এটা জানার জন্য অনেক বিজ্ঞানী এই গ্রামে গেছেন। তারা খুঁজে পেয়েছেন একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ—জিন বা বংশগত বৈশিষ্ট্য।
অনেক বছর আগে কিছু পরিবার এই গ্রামে এসে বসবাস শুরু করে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষের শরীরে এমন জিন ছিল, যার কারণে যমজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরে এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই বেশি বিয়ে হয়েছে। ফলে সেই জিন ধীরে ধীরে পুরো গ্রামে ছড়িয়ে গেছে।
সহজ করে বললে—শুরুর কিছু মানুষের বৈশিষ্ট্য পরে পুরো গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
এক ভয়ংকর গুজব
এই গ্রামকে ঘিরে একটা রহস্যময় গল্পও শোনা যায়।
অনেকে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জোসেফ মেঙ্গেলে নামে এক নাৎসি ডাক্তার নাকি এখানে এসেছিলেন। তিনি যমজ শিশুদের নিয়ে ভয়ংকর পরীক্ষা করতেন। গুজব আছে, তিনি এই গ্রামেও এমন কিছু করেছিলেন, যার কারণে এখানে যমজের সংখ্যা বেড়ে যায়।
শুনতে একেবারে ভৌতিক গল্পের মতো, তাই না? তবে বিজ্ঞানীরা এই গল্পকে সত্যি মনে করেন না। এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এটাকে শুধু গুজব হিসেবেই ধরা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে এত তেল কোথা থেকে এলগ্রামবাসীদের কাছে বিষয়টা কেমন
তুমি হয়তো অবাক হচ্ছ, কিন্তু এই গ্রামের মানুষের কাছে এটা একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার। তারা ছোটবেলা থেকেই যমজদের সঙ্গে বড় হয়, তাই তাদের কাছে এটা নতুন কিছু নয়।
তবে বাইরে থেকে যারা আসে, তারা প্রায়ই কনফিউজ হয়ে যায়। কে আসল, কে যমজ—বুঝতেই সময় লাগে!
অনেক সময় মজার ঘটনাও ঘটে। কেউ একজনকে ডেকে কিছু বলল, পরে দেখা গেল সে আসলে তার যমজ ভাই বা বোন!
যমজদের মিলনমেলা
এই গ্রামে মাঝে মাঝে যমজদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সেখানে অনেক যমজ একসঙ্গে জড়ো হয়। সবাই মিলে ছবি তোলে, গল্প করে, খেলাধুলা করে।
ভাবো তো—এক জায়গায় যদি একসঙ্গে অনেকগুলো একই রকম মুখ দেখো, কেমন লাগবে?
রহস্য এখনো পুরো শেষ হয়নি
বিজ্ঞান অনেক কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছে। জিন আর ‘ফাউন্ডার ইফেক্ট’ দিয়ে বিষয়টা অনেকটাই বোঝা যায়। তবু এই গ্রাম এখনো সবার কাছে একটু রহস্যময়ই রয়ে গেছে।
কারণ, পৃথিবীর অন্য কোথাও এত বেশি যমজ একসঙ্গে দেখা যায় না। তাই এই ছোট্ট গ্রামটা এখনো বিজ্ঞানীদের জন্য খুবই কৌতূহলের জায়গা।
তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফি
প্রজাপতিকেও কেন কিছু মানুষ ভয় পায়